মাওলানা ইবরাহীম আমীন
ইবরাহীম আমীন ভাবনার আলোছায়া
☕
← সকল নিবন্ধে ফিরে যান
ফন্ট সাইজ:
সীরাত ও ভাবনাকথা • ১৮ জুলাই ২০২৫ • ২ মিনিট পাঠ

সীরাতের নূরে আলোকিত হৃদয়ের আকুতি

মাওলানা নদবীর প্রিয় গ্রন্থ 'যাদুল মাআদ' আমার এখনও প্রিয়, এর স্বাদ সত্যিই আলাদা। আমি সীরাতে ইবনে হিশাম যখন পড়ি তখন নিজেকে বেশ বোকা মনে হয়! নিজেকে সান্ত্বনা দিই—তবুও তো ঝর্ণার উৎসটা পেলাম। আসলে আমাদের সময়ে বিষয়ভিত্তিক পাঠ, কোন গ্রন্থ কেন পড়ব, কোনটা আগে পড়ব কোনটা পরে এসব নিজেকেই খুঁজে নিতে হতো। খুঁজতে খুঁজতে পরিচিত হই মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আস-সালেহীর 'সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ', আল্লামা সামহূদীর 'ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা', কাজী ইয়াযের 'আশ-শিফা', আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার 'আস-সারিমুল মাসলুল', হাফেয যাহাবীর 'আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ' এবং ইমাম ইবনে কাসীরের 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ও 'আল-ফুসূল'সহ কত অনন্য রচনার সঙ্গে। সংগ্রহ করি, গভীর তৃষ্ণায় পড়ি। মাওলানা গিলানীর 'আন-নাবিয়্যুল খাতাম'-এর মতো কোনো কোনো গ্রন্থ বারবার পড়ি। বিশেষ করে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন দীনি পত্রিকার সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংখ্যার লেখার জন্যে আদিষ্ট হই। লেখার প্রয়োজনে পড়ি, ভাবি, লিখি। পড়ার সময়, লেখার সময় মাঝেমধ্যেই এই ভেবে মন কাতর হতো—যদি নবীজির পূর্ণাঙ্গ একটি জীবনী লিখতে পারতাম! আবেগে কখনও কখনও একা একা কেঁদে ফেলতাম। কেন যেন শুরু করতে পারতাম না। আজ আমি আনন্দিত। আমি তৃপ্ত, পরম সুখী। প্রিয়তম মনিব, যাঁর হাতের কাওসারের আশায় বুক বেঁধে আছি, যাঁর শাফায়াতের আশায় নিভৃতে একা একা অশ্রুসজল হই, যাঁর প্রিয় শহরের নাম ধরে আনমনে গুনগুন করি—অবশেষে তাঁর পবিত্র নূরে ভরা জীবনীর সাথে নিজেকে একাত্ম করতে পেরেছি। এ আমার লেখকজীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া; আমার প্রতি আমার দয়ালু রবের অপার অনুগ্রহ। নবীজির জীবন পুরোটাই নূর। এই নূর আল্লাহ আমাদের সবাইকে নসীব করুন আর এর সকল পাঠককে নসীব করুন প্রিয় নবীজির শাফায়াত—এই মুনাজাত করি। وصلى الله تعالى على خير خلقه سيد البشر وعلى آله الطيبين وأصحابه أجمعين، آمين يا رب العالمين।
লেখাটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook
মাওলানা ইবরাহীম আমীন

মাওলানা ইবরাহীম আমীন

লেখক

সুখ কখনো সম্পত্তি বা অর্থের উপর নির্ভর করে না। সুখের বাস আত্মার গহিনে। তাই সুখ-দুঃখ দুটোকেই ভালোবাসুন।

যোগাযোগ করুন