মাওলানা ইবরাহীম আমীন
ইবরাহীম আমীন ভাবনার আলোছায়া
☕
← সকল নিবন্ধে ফিরে যান
ফন্ট সাইজ:
স্মৃতিচারণ ও নসীহত • ১৭ এপ্রিল ২০২৬ • ৩ মিনিট পাঠ

আস-সুন্নাহয় একটি আনন্দময় দিন: উস্তাদদের জীবনগঠনমূলক নসীহত

বড়দের জীবনগঠনমূলক বাস্তবধর্মী নাসীহাহগুলো এখনো কানে বাজছে! আল্লাহ যেনো এই কথাগুলোকে আমাদের জীবনে যথাযথভাবে পালন করবার তৌফিক দান করে দেন। শুকরান মুহতারাম শায়েখ আহমাদুল্লাহ সাহেব এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের (As-Sunnah Foundation) সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের— جزاهم الله خيرا احسن الجزاء في الدارين সুন্দর একটা দিন কাটল আজ শায়েখ আহমাদুল্লাহ সাহেবের আস-সুন্নাহয়। সংক্ষেপে কিছু আলোকপাত করি। আয়োজন শুরু হয় সকাল নয়টা থেকে। তখন থেকে নিয়ে বারোটা পর্যন্ত ছিল প্রথম নাসিহাহ সেশন। এখানে আলোচনা করেন মাওলানা লিয়াকত আলী সাহেব, মাওলানা আ.ব.ম সাইফুল ইসলাম সাহেব, মাওলানা আবুল বাশার সাহেব, মাওলানা আবদুল মালেক সাহেব, মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব এবং মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ সাহেব হাফিযাহুমুল্লাহ। তাঁদের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্ট নিচে সংকলিত হলো— ### মাওলানা আবুল বাশার সাহেব দা.বা— ১. আত্মপরিচয় কখনো ভুলবে না। ২. ইলমের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা—চাই যেই পেশাতেই থাকো না কেন। ৩. সময়ের চাহিদা অনুযায়ী তিনটি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা: বাংলা, আরবী এবং ইংরেজি। তবে ভাষাচর্চার ক্ষেত্রে বেদ্বীনদের বইপত্রকে অন্ধভাবে লালন না করা। ### মাওলানা লিয়াকত আলী সাহেব— ১. নববী মানহাজের সাথে জীবনকে আদ্যোপান্ত সম্পৃক্ত করে ফেলা। ২. কখনো নিজের শেকড়কে ভুলে না যাওয়া। ### হযরাতুল উস্তায মুফতী আবদুল মালেক সাহেব দা.বা— ১. আয়োজনকে কাবেলে শুকর মনে করা, কাবেলে ফখর না মনে করা। ২. পরীক্ষার ফলাফল নিজের ভেতরের যোগ্যতাকে নাকেসভাবে (আংশিক) দালালত করে। ৩. অন্যের প্রশংসা শুনে নিজের হাকিকত ও দুর্বলতা ভুলে না যাওয়া। ৪. নিজেদের ঐতিহ্যকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা। কিছু বিষয় তো আম—যেমন একজন মুসলমান হিসেবে নিজের মাঝে যেসব গুণাবলি থাকা দরকার সেগুলো তো অবশ্যই থাকবে। এছাড়াও একজন কওমি সন্তান হিসেবে যেসব গুণাবলি আসা দরকার তা হলো: আদব, তাকওয়া, রুসুখ ফিল ইলম, দীনের সমঝ এবং প্রখর সচেতনতা। ৫. ঈমান-আকায়েদের ক্ষেত্রে সবধরনের প্রান্তিকতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। ৬. মাসলাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা। ৭. সবধরনের তাআসসুবিয়্যত (অন্ধ গোঁড়ামি) থেকে বেঁচে থাকা। তবে সেই সঙ্গে নিজের মাঝে শুকরগুযারিও আসা চাই। ৮. শেকড়ের সাথে সম্পর্ক অটুট রাখা। এটাকে তাআসসুব বলে না, বরং এটা খাইরুল কুরূনের সুন্নাত। ৯. ফারাগাতের পর অনেকে ঘোষণা দিয়ে মূল মাসলাকের বাহিরের বিভিন্ন বিভ্রান্ত ফেরকায় যোগ দেয়—এটা ব্যক্তির ইলমি অপরিপক্বতার প্রমাণ। ### মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেব দা.বা— ১. ইলমি মাসলাকের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারা অনেক বড় নিয়ামত ও গর্বের বিষয়। ২. এজন্যে আল্লাহর কাছে সর্বদা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। ৩. নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে মধ্যপন্থা বজায় রাখা এবং অন্যের কর্মপন্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। ### মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ সাহেব দা.বা— ১. সংবর্ধিত হওয়ার জন্যে শুকরিয়া জ্ঞাপন করা। এটা তিনভাবে হতে পারে—এক, মন থেকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া। দুই, মুখের কথার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করা। তিন, ভবিষ্যৎ জীবনে নিজের কাজের মাধ্যমে আসাতিযায়ে কেরামের দেওয়া আমানতের যথাযথ হেফাজতের মাধ্যমে কার্যকরি শুকরিয়া জানানো। ২. সমাজে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ ও সুষমভাবে উপস্থাপন করা। ৩. যুগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া। নিজের দাওয়াতি কাজের ক্ষেত্রে মাদউ এর অবস্থা সর্বাত্মক রেয়ায়েত করা। ৪. নিজের যোগ্যতা এবং মেধাকে বাস্তবায়নের পথে দৃঢ় সংকল্প হওয়া। পরিবর্তনের এই মোক্ষম যুগে এসে নিজেদের এগিয়ে না নিলে দ্বীনের ক্ষতি হবে। জুমার পর শুরু হয় দ্বিতীয় সেশন। পুরস্কার বিতরণীসহ বিশেষ নাসিহাহ পর্ব। এই সেশনের মূখ্য ব্যক্তি ছিলেন মুহতারাম ড. ইউসুফ সুলতান হাফিজাহুল্লাহ (কওমি আলেমদের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক)। এরপর বক্তব্য রাখেন ড. এবিএম হিযবুল্লাহ এবং অন্যরকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান সোহাগ ভাই (আধুনিক ফেতনার মোকাবেলায় করণীয়)। সবার শেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ সাহেবের সারগর্ভ সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে এই স্মরণীয় দিনটি সমাপ্ত হয়।
লেখাটি শেয়ার করুন:
WhatsApp Facebook
মাওলানা ইবরাহীম আমীন

মাওলানা ইবরাহীম আমীন

লেখক

সুখ কখনো সম্পত্তি বা অর্থের উপর নির্ভর করে না। সুখের বাস আত্মার গহিনে। তাই সুখ-দুঃখ দুটোকেই ভালোবাসুন।

যোগাযোগ করুন